সন্তান পরিবারের মধ্যেই লালিত-পালিত হয়। পরিবারে পিতা-মাতাই এই সন্তানকে বড় করে তোলে। সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার যেমন ভূমিকা রয়েছে তেমনি পিতা-মাতার প্রতি সন্তানেরও ভূমিকা রয়েছে। বাল্য ও কৈশোরে আমরা পিতা-মাতার আদেশ ও উপদেশ মেনে চলি। পরিবারে আমরা মায়ের নানা কাজে সহায়তা করে থাকি। সন্ধ্যায় আমরা দেবতাদের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা আরতি দেই, পূজা করি। কখনো কখনো আমরা রান্নার কাজে মাকে সহায়তা করি। আবার বাবার কাজেও আমরা তাকে সহায়তা করে থাকি। পারিবারিক কাজে পারস্পরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের পারিবারিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে। আমাদের পিতা-মাতা এতে আনন্দিত এবং সন্তুষ্ট হন। পিতা-মাতাকে সন্তুষ্ট ও আনন্দে রাখা আমাদের কর্তব্য ।
আমরা পড়াশুনায় ভালো করলেও পিতা-মাতা খুশি হন। পিতামাতাকে খুশি রাখা আমাদের কর্তব্য।
কর্তব্যবোধ মানুষের মহৎ গুণ। ধার্মিক সর্বদাই কর্তব্যপরায়ন। বৃদ্ধ পিতা-মাতার পরিচর্যা ও ভরণপোষণও আমাদের কর্তব্য। পিতা কিংবা মাতার অবর্তমানে তাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করাও আমাদের কর্তব্য। যেমন-পিতার অবর্তমানে মা, ছোট ভাই-বোন, প্রতিবন্ধী ভাই-বোন লালন-পালন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় আর্থিক সহায়তাদান, পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করা প্রভৃতি আমাদের কর্তব্য। আমাদের সকলের উচিত পিতা-মাতার ইচ্ছা, আবেগ ও অনুভূতির প্রতি অত্যন্ত সজাগ থাকা। পিতা-মাতা এতে খুশি হন। সুতরাং পিতা-মাতাকে খুশি ও আনন্দে রাখাও আমাদের কর্তব্য।
আমাদের সমাজ জীবনে দেখা যায় পিতার অবর্তমানে সম্পত্তি নিয়ে ভাই-ভাই ঝগড়া বিবাদ করে। পিতার অবর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবারে বড়ভাই কিংবা অন্য কেউ সকলের ভরণ-পোষণসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন। পরিবারের শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে তারা পিতার মতোই ভূমিকা পালন করেন। এটিও সন্তানের কর্তব্য।
| একক কাজ: পারিবারে পিতা-মাতার প্রতি আমরা কোন কর্তব্যগুলি পালন করে থাকি তা লেখ। |
Read more